সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)

১৯৯৫ সালে এসইও প্রথম অফিসিয়ালভাবে যাত্রা শুরু করে।  ইয়াহু ডেভেলপারগণ সর্বপ্রথম অ্যালফাবেটিক অপটিমাইজেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। মাত্র ১ বছরেই অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে এসইও এর ব্যাপকতা শুরু হয়।

একটি ওয়েব সাইটকে অনলাইনে কার্যকর করে তোলার জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও (SEO) একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।  বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় করার জন্য সাইটে ভিজিটর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আপনার সাইটে ভিজিটর আসার অন্যতম একটি উপায় হলো , সার্চ ইঞ্জিনে অবশ্যই আপনার সাইটকে হাই র‌্যাকিং পেতে হবে।

আজকে আমরা এসইও কি এবং কেন করা হয়, সাথে সাথে এসইও কিভাবে করা হয় আর কেনই বা আপনি এসইও করবেন, এসব জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

 

এসইও এর পূর্ণরূপ হচ্ছে “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন”। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও (SEO) হলো এমন কিছু সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, যেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট, ব্লগ ইত্যাদিকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে প্রদর্শন করানো যায়। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন হলো অর্গানিক অর্থাৎ এটি স্বয়ংত্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয় যার জন্য আপনাকে কোনো পয়সা খরচের প্রয়োজন নেই।


কেন এসইও করা হয়?

আমরা স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে RANK করানোর জন্য এসইও করি। এসইও করার মাধ্যমে আমরা সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের প্রথমে থাকতে চাই। কারণ মানুষ যখন কোনকিছু নিয়ে সার্চ দেয় তখন তাদের লিংকেই ক্লিক করে যারা রেজাল্ট পেজের প্রথমে যাদের লিস্ট থাকে।

এসইও করা কেন জরুরী? এটি একটি জটিল প্রশ্ন। আসলে আপনি কেন এসইও করবেন সেটা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন তাহলে আপনার এসইও করতে হবে, আপনার ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্যে।

মনে করুন, আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি ইলেকট্রনিক্স পণ্য  বিক্রি করেন। এখন আপনি অবশ্যই চাইবেন যে গুগলে কেউ যখন পেনড্রাইভ লিখে সার্চ দিবে তখন যেন গুগলে আপনার ওয়েবসাইটকেই প্রথমে দেখায়। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকে ক্রেতারা এসে আপনার পণ্যটি কিনবে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, পেনড্রাইভ লিখে সার্চ দিলে দারাজ.কম আগে আসে।

এখন এইযে পুরো প্রক্রিয়া যেটার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল “পেনড্রাইভ” এই কিওয়ার্ডের জন্য দেখাবে সেটাই আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় এসইও বলে থাকি। তাহলে এসইও করার গুরুত্ব কতটা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।

এসইও কত প্রকার কি কি?

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও মূলত তিন প্রকার:

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও মূলত তিন প্রকার:

১.হোয়াইট হ্যাট এসইও (White hat SEO)  :

সার্চ ইঞ্জিনের নির্দেশনা এবং নিয়ম অনুসরণ করে যে SEO করা হয় তাকে হোয়াইট হ্যাট এসইও (White hat SEO) বলা হয়। আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মনীতি অনুসরণ করে আপনার ওয়েবসাইটটিকে SEO করেন তবে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর বাড়াতে পারবেন।

২.গ্রে-হ্যাট এসইও (Gray hat SEO)  :

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও এর মধ্যবর্তী পদ্ধতিকে গ্রে- হ্যাট এসইও বলা হয়। সাধারণত শর্টটাইম ব্যবসার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। একটি ওয়েবসাইটকে কয়েক মাসের মধ্যে এ পদ্ধতিতে র‌্যাঙ্ক করানো যেতে পারে।

৩.ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black hat SEO)  :

সার্চ ইঞ্জিনের গাইডলাইন বা নীতিমালা অনুসরণ না করে যে SEO করা হয় তাকে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও বলা হয়। মানুষ এটার প্রতি আগ্রহী হয় কারণ, এই ধরনের সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে অনেক লিংক তৈরি করা যায়।

কাজেন ধরন অনুসারে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন প্রধানত দুই প্রকারঃ

১.অনপেইজ অপ্টিমাইজেশন  :

অনপেইজ এসইও হলো একটা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম  অনুসারে সাজানো যাতে করে ইউজার আপনার সাইটকে পছন্দ করে এবং কোনো তথ্য জানার জন্য পুনরায় আপনার সাইটটি ভিজিট করে।

যেমন মনে করুন, আপনি একটি নতুন মোবাইলের দোকান দিয়েছেন, এখন দোকানের ভিতরের সাজ সজ্জাটা কেমন হলে ভালো হয়, মোবাইলের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে কোন ধরনের মোবাইল কোথায় রাখলে ভালো হয়, সহজেই কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় ইত্যাদি বিষয়গুলো সঠিকভাবে নির্ধারণ করা

২.অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন  :

অফপেইজ এসইও হলো অনলাইনে যে আপনার একটি ওয়েবসাইট বা ব্যবসা আছে সে সম্পর্কে অন্যদের অবহিত করা এবং বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে আপনার সাইটের এর লিংক বা ইউআরএল প্রতিস্থাপন বা শেয়ারিং- এর মাধ্যমে ভিজিটরকে স্বাগত জানানো এবং রেফারেন্স বাড়ানো।

স্থানভেদে বা লোকেশন অনুসারে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) আবার দুই প্রকারঃ

১.লোকাল এসইও :

 সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলের স্থানীয় যেকোনো ধরনের অনলাইন ব্যবসা প্রচারণার জন্য এসইও করাকে লোকাল এসইও বলে।

২.গ্লোবাল বা ইন্টারন্যাশনাল এসইও :

 অনলাইনে ইন্টারন্যাশনাল বা বিশ্বব্যাপী ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে যে ধরনের এসইও করা হয় তাকে গ্লোবাল বা ইন্টারন্যাশনাল এসইও বলে।

টেকনিক্যাল এসইওঃ

টেকনিক্যাল এসইও হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা  একটি ওয়েবসাইটকে অর্গানিক র‌্যাকিং পাওয়ার জন্য আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনগুলোর প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে।

ওয়েবসাইটে যদি টেকনিক্যাল এসইও সঠিকভাবে করা না থাকে তাহলে এটা নিশ্চিত যে আমরা সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে র‌্যাঙ্ক করতে পারব না।

 

 

সফল এসইও ডেভলপমেন্টের উপায়সমূহঃ

  • টার্গেট সাইটটির প্রয়োজনীয় সার্চকারীদের জন্য একটি কীওয়ার্ড স্ট্র্যাটেজি ডেভলপ করা।
  • একটি শক্তিশালী সংগঠিত (Well Structured) ওয়েব সাইট তৈরি করা।
  • ওয়েব পেজসমূহের জন্য মানসম্পন্ন কন্টেট তৈরি করা
  • অন্যান্য বিভিন্ন রিলেটেড সাইট থেকে লিংক পাবার জন্য সংশ্লিষ্ট সাইটকে যথাযথভাবে প্রোমোট করা।
  • SEO এর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সকল টেকনিক্যাল বাধা অতিক্রম করা।

উপরিউক্ত এই পাঁচটি বিষয় যথাযথভাবে সম্পন্ন করলে যেকোন ওয়েব সাইট নিঃসন্দেহে যেকোন মেজর সার্চ ইঞ্জিনের জন্য একটি অপ্টিমাইজ সাইটে পরিণত হবে।

একজন ব্যবসায়ী কেন এসইও করবেন ?

ধরুন আপনার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে আপনি অনেক ভাল ভাল পণ্য কিংবা সেবা প্রদান করেন। বর্তমান সময় অনুযায়ী  যদি আপনি আপনার ব্যবসাকে অনলাইনে সুন্দরভাবে পরিবেশন করতে না পারেন তাহলে আপনার ক্রেতাগণ কোনভাবেই আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে না। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটিকে ভালভাবে সার্চ ইঞ্জিনে RANKING এর জন্যে অপটিমাইজ করতে পারেন তাহলে আপনার পণ্য বা সেবার বিক্রি অনেকাংশে বেড়ে যাবে। ভিজিটর যত বেশি হবে, পরিচিতি আর প্রসারও তত বেশি হবে। আর এই প্রসারের মাধ্যমে আপনার পণ্যের বিক্রিও অনেক বেড়ে যাবে। আর পণ্যের বেশি বিক্রি মানেই হচ্ছে বেশি মুনাফা অর্জন করা।

পরিশেষে বলা যায় যে, আপনি যদি আমাদের আর্টিকেলটি ভালভাবে পড়ে থাকেন তাহলে এসইও কি আর এর প্রয়োজনীয়তা কি, এই সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আমরা আসলে চেষ্টা করেছি সহজে আপনাদেরকে বুঝাতে যে, এই একবিংশ শতাব্দিতে কিভাবে মানুষ ইন্টারনেটে পণ্য ক্রয় করে।

আবার যেকোন তথ্যের জন্যেও ইন্টারনেটেই যায়। কারণ অনলাইনে সবকিছুই পাওয়া যায়, আর এই খুঁজে পাওয়ার জন্যে সার্চ ইঞ্জিন নামের একটি অনলাইন মেশিন ব্যবহার করা হয়।

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে দেখতে চান, তবে আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ডের জন্যে আপনার ওয়েবসাইটের পেজকে অপটিমাইজ করতে হবে। আর আপনি যদি ভালভাবে এসইও করতে পারেন তাহলে আপনি অনেক দূর যেতে পারবেন