ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

বর্তমান যুগ ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগ। এখন ঘরে বসে অনলাইনে কেনা কাটা থেকে শুরু করে, অনলাইনে ইনকাম করা সবটাই এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর নির্ভর করে। কেননা বিগত এক দশকে ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্বিগুণ হারে বেড়ে যাওয়ায় আপনার কোম্পানি বা সংস্থাকে অনলাইনে মার্কেটিং বা পরিচিত করে তুলতে বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি গ্রাহকদের সাথে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে তাদের সাথে  খুব সহজেই কমিউনিকেট করতে পারবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে মানুষ মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় পন্যের বিজ্ঞাপনকেই বুঝে। আসুন আজকের এই আর্টিকেল থেকে আমরা জানার চেষ্টা করি, ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং এর সাথে আরো কি কি ব্যাপার জড়িত আছে। এই সব বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে অনলাইনে পন্য বা সার্ভিসের বিজ্ঞাপন প্রচার করাকে বোঝায়। যেখানে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপনগুলো কাস্টমারের কাছে পৌছানো হয় সেটিই ডিজিটাল মার্কেটিং।


ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ  :

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিপণন মাধ্যমগুলো হলো  :

গুগল এডসেন্স :  গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এমন একটি সার্ভিস যার দ্বারা Advertiser –রা টাকা দিয়ে যে-কোনো বিজ্ঞাপন ইন্টারনেটে দেখতে পারেন এবং Publisher- রা নিজের vlog, you tube video তে গুগলের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন।

সোশ্যাল মার্কেটিং :  সোশ্যাল  মার্কেটিং হ’ল কোনও পণ্য বা পরিষেবা প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম  ওয়েবসাইটগুলির ব্যবহার। যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটিং ক্যাটাগরি।

 এসইও : এসইও এর পূর্ণরূপ হচ্ছে “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন”। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও (SEO) হলো এমন কিছু সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, যেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট, ব্লগ ইত্যাদিকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজে প্রদর্শন করানো যায়। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন হলো অর্গানিক অর্থাৎ এটি স্বয়ংত্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয় যার জন্য আপনাকে কোনো পয়সা খরচের প্রয়োজন নেই।

ইমেইল মার্কেটিং : ই-মেইল মার্কেটিং বলতে বোঝায় , ই-মেইলের মাধ্যমে মার্কেটিং , প্রচার বা অন্যান্য সেবা সংক্রান্ত কাজের প্রমোশন করানোকে। ই-মেইল মার্কেটিংকে গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

এসএমএস মার্কেটিং : যে পন্থায় গ্রাহকদের অনুমতি-সাপেক্ষে তাদের কাছে প্রচারণামূলক বার্তা এসএমএস করে সহজেই পাঠানো যায় তাকে এসএমএস মার্কেটিং বলে। ই-কমার্স সাইটের নতুন কোনো পণ্যের আপডেট কিংবা নতুন কোনো অফার অথবা বিশেষ কোনো ক্যাম্পেইনের খবর গ্রাহকদের কাছে পৌছানোর ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবসায়ীরা এর উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে।

কনটেন্ট মার্কেটিং : যে মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য সম্পর্কে ভিন্নধারায় ও চমৎকারভাবে উপস্থাপন করে, দর্শকদেরকে নিজেদের ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা তৈরি করানো যায় তাকে কনটেন্ট মার্কেটিং বলে। যেমনঃ ব্লগিং, ভিডিও কনটেন্ট, রিভিউ ইত্যাদি। আপনি বিভিন্ন ধরনের তথ্যমূলক এবং আকর্ষণীয় আর্টিকেলের মাধ্যমে কাস্টমার বাড়াতে পারেন। ব্লগের সারমর্ম , ইনফরমেটিভ কনটেন্ট , ছবি এবং ভিডিও আর মিউজিক সবকিছু মিলে ই-কমার্স ব্যবসার প্রচারে ভিডিও কনটেন্টও অত্যান্ত জনপ্রিয়।

ওয়েবসাইট মার্কেটিং : ওয়েবসাইট হলো এমন একটি মাধ্যম যেখানে আপনি আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত সকল তথ্যভান্ডার সাজিয়ে সেটা সবার কাছে সহজেই তুলে ধরতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন প্রয়োজন?

মানুষ এখন কোন পণ্য কেনার করার আগে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে সেই পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ক্রয় করে। তাছাড়া মানুষ এখন দোকানে সরাসরি না গিয়ে , অনলাইনে অর্ডার করেই বেশিরভাগ কেনা কাটা করে থাকে। তাই আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন, তাহলে আপনার উচিত ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে নিজের ব্যবসাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

বর্তমান যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তাগুলো নিম্নরুপঃ

  • সমগ্র বিশ্বে মোট প্রায় বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।দিনদিন এ সংখ্যাটি বেড়ে চলেছে। মানুষ যত বেশি ইন্টারনেটে ব্যবহার করবে তত বেশি মানুষের সামনে আপনি আপনার পণ্যের মার্কেটিং করতে পারবেন।
  • বর্তমান বিশ্বে মোট প্রায় .১১ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।আর এই সংখ্যা খুবই দ্রুত বেড়ে চলেছে। প্রায় সকল মোবাইল ব্যবহারকারীই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। তাই ইন্টারনেট ইউজারের সংখ্যা যত বাড়বে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।
  • একটা স্ট্যাটিসটিক্সের মাধ্যমে ইউজার সার্ভে রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, প্রায় ৮৪% বিক্রেতা, মার্কেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ক্রেতার তথ্য সংগ্রহ করার জন্যে।
  • সারা বিশ্বে ৫৫% মানুষ যেকোন পন্য ক্রয়ের জন্যে সামাজিক মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। ক্রেতা যার প্রেজেন্টেশন ও পণ্যকে পছন্দ করবে তার কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই ক্রয় করবে।
  • ৪৩% কমার্স ক্রেতা গুগলে সার্চ করে তাদের পছন্দের কমার্স ওয়েবসাইটে আসে।
  • বিশ্বে প্রায় ৫১% ক্রেতা তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা অনলাইন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করে থাকে।এই সংখ্যাটিও দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
  • ৭০% ক্রেতা যেকোন পণ্য কেনার আগে ইন্টার্নেটে সার্চ দিয়ে সেই পণ্য সম্পর্কে যাচাই বাছাই করেন।পণ্যটি পচ্ছন্দ হলে সাথে সাথেই ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করে ফেলেন।
  • ৮২% গ্রাহক অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রেতার সাথে তাদের লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলতে চান।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনলাইনে   সম্ভাব্য গ্রাহকদের আপনার পণ্যগুলো প্রতি স্থানীয়ভাবে খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি ক্রেতাদের আকর্ষণ তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এর ফলে আপনার পণ্যের সেল খুব দ্রুত বেড়ে যাবে।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং এর টেকনিকগুলো  ব্যবহার করে আপনি স্বল্প সময়ে খুব কম খরচেই এবং সহজেই বিপুল পরিমাণ ক্রেতা বা কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন যা  প্রচলিত মাধ্যম গুলো অবলম্বন করে পারবেন না।
  • আপনার টার্গেট করা অডিয়েন্স বা গ্রাহকদের কাছে খুব সহজেই পৌছাতে পারবেন এবং দ্রুত তাদের সাথে কমিউনিকেট তৈরি করতে পারবেন।
  • বর্তমানে এই বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর জন্য এবং এখানে টিকে থাকার জন্য অনলাইনে ডিজিটাল মার্কেটিং অত্যন্ত কার্যকরী। এবং এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন এবং কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তুলনামূলক কম খরচে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কি?

বর্তমান বিশ্বের বাজার ব্যবস্থা ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিচ্ছে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন মানুষ আর দোকানে কিংবা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনা বন্ধ করে দিবে। তারা সবকিছু অনলাইনেই কিনে নিবে। কেননা মানুষ সময় নষ্ট করে বাজারে গিয়ে পণ্য যাচাই বাছাই করার থেকে অনলাইনে যেকোন পণ্য সম্পর্কে সার্চ করে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা জেনে নিতে পারে। আর পছন্দ হলে সেই পণ্য একটি বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই কিনে নিতে পারে।

 আর এই অনলাইন বাজার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর নির্ভরশীল। আপনি যদি এখনই নিজেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এ দক্ষ করে না তুলতে পারেন, তাহলে আপনি এই বাজার ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারবেন না। কারণ আপনার পণ্য সম্পর্কে যদি মানুষ অনলাইনে জানতেই না পারে, কিংবা আপনার পণ্য যদি অনলাইনে কিনতে না পারে, তাহলে কোন ক্রেতাই আপনার পণ্য কিনবে না।

আপনি যদি ভবিষ্যতে আপনার ব্যবসাকে সফল হিসাবে দেখতে চান তাহলে এখনি সময়। এখনি উত্তম সময়, নিজেকে এবং নিজের ব্যবসাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আওতায় নিয়ে এসে, ক্রেতার সামনে আকর্ষনীয়ভাবে নিজের পণ্যকে তুলে ধরার।

আপনি যদি এই ডিজিটাল যুগে, ডিজিটাল মার্কেটে টিকে থাকতে চান, তাহলে আপনার এখনই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব নিয়ে চিন্তা করা উচিত। কারণ আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু বসে নেই, সে কিন্তু তার ব্যবসাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন।  বড় বড় কোম্পানীগুলোও বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়াতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।